রূহের ভিতর বহিছে তার দিদার

মহাসভ্যতা

বিকেলে পুকুরঘাটে বসে
জলেভাসা এক হলুদ পাতায় দেখছি
এখনই ঠোকর দিলো অকাতর মাছ
নিরন্তর একটি জুয়ামাখা দিন
আমাকে তুলে নিয়ে রাখলো
তার চোখের ভেতর
সেখানে আরও কত কানা বধির
কর্তার বহর ঘুমিয়ে আছে দেখলাম
কোথাও নেই একক ‘মানবসভ্যতা’
এই পুকুরে আমার মা বাসনকোসন
ধুয়ে গেছেন কত কত বছর ধরে
তার হাতের ঝানু কর্তব্যসহ তরঙ্গিত
পুকুরটি তুলে নিয়ে সভ্যতার দিকে
উড়াল দিলো ফর্সা উড়োজাহাজখানি

দেশি জাতের ঘড়ি আবাদ করি

ফুলের পাপড়ি খসিয়ে খসিয়ে
আত্মহানি শিল্পের দিকে যাওয়া
এসো যাই
ছুঁয়ে আসি মিছামিছি সততা
যা ফোটে প্রতিদিন সকালে
কাচা সড়কের পাশে

এই পথে
ভুখা অঞ্চলের পশুপাখি হয়ে যাই
আর পালকে পশমে ক্ষুধা
বাঁচিয়ে রাস্তা রচনা করি
চলো যাই
তোমার আমার অন্তস্থলে
দেশি জাতের ঘড়ি আবাদ করি

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন

আমি বোকা মাছের মতো
গা-ঝাড়া দিলাম- ঠিক বড়শিটা মুখে নিয়েই।
এখন যুদ্ধটা তা হলে কেমন হবে?
জলজাতির সঙ্গে আমার সম্পর্ক
উচ্চ তামাশা নিয়েই শেষ হবে!
তখনই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন-
‘তুমি কি বোকা হলে, নাকি ঠকে গেলে।’

ইতিমধ্যে বড়শিটা গলা হয়ে পেটে নেমে গেছে
আমার সামর্থ সামান্য জলতরঙ্গেই সীমিত
এদিক-ওদিক চাড়া দেওয়া ছাড়া আর কী
আমার জলে আমারই সংহার!
ডাঙা আর জলের দ্বৈতাচার
বুঝতে হলে জ্ঞানত নয় অজ্ঞেয়
প্রার্থনা দরকার

জলের হাতে বড়শি, ডাঙ্গায় নিয়তি
দুইকে একসঙ্গে করে আমার
ধর্মে যাওয়া হলো না যদি

২৫ মার্চ ২০২২, দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ

 

নোনতা জীবন

কাউকেই চিনি না আমি
এক ভাষিক অন্ধকার ছাড়া
আমার বনে কোনো
সখি ফুটে না

বিষণœ বীজ থেকে
উৎপন্ন হয়ে
একাই জেনেছি-
মৃত্যুাবধি জীবন নোনতা

১৬.০৫.২০২৫
দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ

বাড়া ভাতে ছাইয়ের আয়োজন

আমার আমলনামা আমারে দেও
তারে লইয়া থাকতে চাই মুর্শিদ
তোমারে লইয়া খেলতে চাই মাবুদ
তেমুন কইরা খেলমু
যেমুন করইয়া নয়ামানুষ খেলে
রুপালী পানি লইয়া
আমার বাড়া ভাতে এতো ছাইয়ের
আয়োজন
তুমিও তারে ঘুটা দিলা

ক্ষুধাবাগান

দুর্দান্ত দুই ঘোড়া মাটি কাটতে যাচ্ছে
পেছনে ঘনসন্ধ্যা

প্রায় তিনফুট ঘেরের ক্ষুধাগুলো
সেজেগুজে হাঁটছে
একনিমিষে তা ছড়িয়ে পড়ছে
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া

ঘোড়াদুটি যার যার ওজনের সমান
মাটি কেটে সেই গর্তে ক্ষুধাগুলো
পুঁতে ফেলছে
এখন সেগুলো গাছ হয়ে
বাগান হয়েছে

২৫ মে ২০২৫
দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ

 

ভিতর বাহির

শিখাইলা বিকাইয়া যাওয়া
এখন কও সংযত হও
আর পারি না রে পাগল
এখন আর হয় না
বাইরে সবটাই বেচাবিক্রি
সমূলে তাই ভিতরেই থাকি
কী জানি চাড়া দেয়

সুহৃদ পাথর হইতে পারে

২৪ মে ২০২৫
ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ সড়ক

হৃদয় লাগোয়া বাড়িটি

হৃদয় লাগোয়া যে বাড়িটি আমার
তার পাশেই ধানবন
এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা
ধানের দেহে কৃষকের শুক্রাণু
তারপর গ্লসনস্ত পেরেস্ত্রোইকা

ইতিহাসের শেষ ঘোষণা আসে
আমেরিকা হয়ে বাংলাবাতাসে
দেখে মজলুম- মজলুমের
পেটের ভেতর ইনকিলাবের লাশ

হৃদয় লাগোয়া যে বাড়িটি আমার
তার পাশেই ধানবন
বনে হেঁটে বেড়ায় যাদুকাটা নদী

১৯ জুন ২০২৫
ঢাকা-নারায়ণঞ্জ সড়ক

তুরিনের বোনের জানালা

তুরিনের বোনের জানালায় সে ছাড়া
আর কেউ মুখ দেখাতে জানে না
আশপাশের গাছে মৌচাকে
ঢিল দিলে শতশত মৌমাছি
জানালা দিয়ে ঢোকে
আবার বের হয়ে আসে যেন মধু নিয়ে
তুরিনের বোনের সঙ্গে এসব মৌমাছির
হয়তো গল্প নেই। তবুও প্রসঙ্গ যখন
এসে যায় তখন তুরিনের বোন দূরের
কেউ মনে হয় না।
মৌচাক স্বল্পস্থায়ী হলেও মধু চিরন্তন
লেগে থাকে মিথের মতোন।
এরপরও তুরিনের বোন প্রসঙ্গ থাকে
আগেরই মতোন

২৭ জুন ২০২৫
উৎসব বাসের লাইন
বায়তুল মোকাররম, ঢাকা

পূর্ব পশ্চিম

তোমাদের হাতে হাতে বন্দুক
আমাদের মাথা ভরা শিশ্ন
তোমরা স্কুলে-স্কুলে গুলি করো
আমরা ঝোঁপে-ঝাড়ে ধর্ষণ করি
গাছগুলি মনগুলি ধর্ষণ করি

যতটা সম্ভব রক্তপাত গিলে ফেলি
বলি না- আরও কোনো নতুন
সূর্যোদয় হোক

১৮ এপ্রিল ২০২৫
নারায়ণগঞ্জ

 

তোমাদের যেটা স্টেশন

তোমাদের যেটা স্টেশন
আমার সেটা দুঃখ
কেউ আসে কেউ যায়
আসা যাওয়ার
মানে কিন্তু যায় না

স্টেশনটা নির্জন হলে
বুকে উঠে বসে প্লাটফরম।
কথা হয় তার সঙ্গে-
যে নেই কোনো রূপে

২০২৪ নারায়ণগঞ্জ

পোষাকথা

বউ তোমাকে বদলাবে
তুমিও বউকে বদলাবা
বদলাবে না দু’মনা
আরও নিঃসঙ্গ হবে
যার যার পোষাকথা

জীবন হবে বাঁশি
দুজনই বাজাবে তারে
বাজবে না সুরে

 

বড়শিপাতা ফাঁদ
(উৎসর্গ: শারেফ)

ঘর থেকে বেরিয়ে আমি
খুঁজবো সেই মুখ, মুখের
ছায়ায় অতিক্রান্ত সভ্যতা

কী সেই জন্ম, কী তার যন্ত্রণা
স্বপ্নখননের মন্ত্র দিয়ে ঘেরা
দিগন্তের ঘাসবনে

ঘর থেকে বেরিয়ে আমি
খুঁজবো সেই জেরবার মনে
যেমন হন্যে হয়ে বাতাস
খোঁজে শূন্যতা

খুঁজবো আমাদের
জন্মের বড়শিপাতা ফাঁদ

১০ অক্টোবর ২০২৪
বাংলামোটর, ঢাকা

 

 

রুবিনাচরিত

পোশাক কারখানার ফটকে
চাঁদের হাট বসে
সেই হাটের তুমি রুবিনা

ন্যাঙটাকালের স্মৃতি দিয়া
সেলাইছো দুনিয়া
লজ্জাস্থান ঢেকে যাচ্ছে
বেথুন ফলের থোকায়

১৮ এপ্রিল ২০২৫
নারায়ণগঞ্জ

জীবনে ধাক্কা দেওয়া ভাতের হোটেল

জীবন ফুরিয়ে যাবে
জীবনে নেয়েওঠা সূর্য ফুরাবে না
কচু-ঘেচুর ভেতর উঁকি দেবে
আগুনের ভায়োলিন

লতা-গুল্ম-তৃণে
নন্দনের ফোঁটা
ছুটে যাবে হরিৎ চুম্বনে
ফিরবে
জীবনে ধাক্কা দেওয়া ভাতের হোটেল

১৮ এপিল ২০২৫
নারায়ণগঞ্জ

 

 

শস্যমারা কার্তিক

একাই আমি মৃত্যু ফেরাবো
তবুও কথা থাকে
তোমাদের জন্য বুকে
এই যে আমি গত রাতে মৃত্যু দেখলাম
আমার প্রিয় নিঃশ্বাস, যাকে আমি
এক মুহূর্ত ছাড়িনি
সেও পালাতে চাইলো
এই কথা তোমরা কানে তুলো না
আমার মৃত্যুর পরে তোমাদের মুখে
দেখা দেবে শস্যমারা কার্তিক

 

কবি ও রাষ্ট্র

কবিরা রাষ্ট্রের কাছে গেলে
রাষ্ট্র কবির কাছে এলে
বিহঙ্গ কোথায় যাবে

রোহিতের পুঁজি নিয়ে
মোহিতকে তুষ্ট করলে
অনেক শব্দ স্মরণার্থী হয়ে যায়
কবি তুমি ইমানের খেলাপ করলা
বৃক্ষ আর বিহঙ্গে
থাকিবার কথা ছিলো তোমার

বেদনাকে রুজি বানিয়ে গেলে
হংসবন মাড়িয়ে

২০ নভেম্ব ২০২৩
পুরানা পলটন

যুগলচন্দ্রবিকিরণ

শাহবাগে জ্যামের ভিতর
অচিনার লিটারেট স্তন
সামন্ত দুটো জয়তুনের বন

চোখের পাতায় ছড়িয়ে পড়ে
পুষ্পপতিতবচন

কবির জন্য ভয়ঙ্কর এই
যুগলচন্দ্রবিকিরণ

০৮ জুলাই ২০২২
শাহবাগ, ঢাকা

চরিত্রফুল
(উৎসর্গ: আলম আলোক)

সংহারি কুয়াশায় পৃথক পরিযায়ী
গোপন বাসনার চেয়েও গোপন সময়ের মুখ
পাহাড়ি মদের নদী নিয়ে উড়ে যাচ্ছে
বাণিজ্যমন্ত্রলয়ের মাছরাঙাটি
আমাদের জানামতেই প্রতিদিন
চরিত্রে জাগে কালো কালো কেশ

সোনা-দানায় বেঁচে থাকে পিঙ্গল মাংস
বাতাসাসে কামড় দিলে মুখ ভরে যায় দুর্ভিক্ষে
তবুও টেপাপুতুলের মতো ত্যানায়
প্যাঁচানো থাকে বীরের তরবারি

আমাদের কিছুই কাটে না, চরিত্র যায় কংক্রিটে
তৈরি হয় বহুতল উচ্চতা
এতো উপরে উঠলে আর মানুষ বাঁচে না

শানেনজুল

তুমি না থাকলেও
তোমার নৌকা ভাসে
মেরুন আকাশে
ফোটে মৌনফুল
কী মারফতি জপ
রেখে গেলে মাওলার
তজবিতে আঁটে না
তার বিমনা স্কুল

১০ নভেম্বও ২০২৪
নারায়ণগঞ্জ

 

রিয়া গোপের মিথ

বদলে গেলো মেজর কুকুরের ঘেউ
বদলাবে বুলেটনম্বর ওয়ান জিরো ফোর
রুটি-ভাতে বাসনের সংখ্যা

শিশুর খেলনাপাতি বদলে গিয়ে
পাথরেও নামবে শীত
সঙ্গে লাগবে রিয়া গোপের মিথ

৩৫ জুলাই ২০২৪

 

লাশনম্বর কত

আমি লাশনম্বর কত
কবি কুলাঙ্গার
পোষ্য তোষ্য
নতমুখ যত
নিখুঁত লাশন্বর কত

বুলেট-বিহ্বল রাষ্ট্র
সুহৃদ রক্ততন্ত্র
নীরব মুখর শত শত
মৃত্যুর লাশনম্বর কত

ঠিক সংখ্যায় লেখো
বাংলাদেশের মতো

আমি লাশনম্বর কত

১৭ জুলাই ২০২৪
নারায়ণগঞ্জ

আবু সাঈদের মৃত্যু

আবু সাঈদ কি আসলেই মরেছিলো
আমার তো মনে হয় না
শুনেছি মৃত্যুর মতো কিছু একটা আসতেই
বুক চিতিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছিলো সে
আবু সাঈদ মরলে তো আমাদের
বাঁচার কথা না, আমরাতো বুকটান করে
বেঁচে আছি, গাছগুলো সবুজ আছে
নারীরা মাছ কাটছে, মুড়ি ভাঁজছে
আমরা আবু সাঈদের জন্য দোয়া করছি
সে বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে দৌড়াচ্ছে

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বাংলামোটর, ঢাকা

যে যায়

পাখি বেশে এসে
পাথর বেশে গেলে
যেভাবে যায় কার্তিকের মেঘ
সেভাবে যাও নাতো তুমি
তোমার ছায়ায় জন্মে
জন্মভূমি
দিনদুপুর কহে, কী কহে
সর্বত্র নামের পাশে
খালাতো বোন বহে
তার এক বুকে দুই স্কুল
কেউ পড়ে না বিধাতার ভুল

২৯ নভেম্বর ২০২৩
পুরানা পলটন, ঢাকা

 

 

জনমে যা ঘটে

সর্বস্তনে জানাই
ব্যথার মতো মা নাই

মৎস্যপুচ্ছে
পুন:পুন: অলক্ত ঘাই

গহনে ফোটে দাহ্য শানাই

০৪ ডিসেম্বর ২০২৩
পুরানা পলটন, ঢাকা

মোমেনার হাওয়ায় আমি ফুল ফুটিয়ে থাকি

কে হারালো, হারলোইবা কে
কার সিনা থেকে সরে গেলো মোমেনা
সেই খবর নিয়ে এলো পাতাগুলো
জুলুমে ঝরা পাতাগুলো দিয়ে

আমি মোমেনার হাওয়ায় ফুল ফুটিয়ে থাকি
আর আমাদের পাড়ার স্কুলে শিশুরা
পড়ে উচ্চবর্গের ইতিহাস-পাঁয়তারা
নীরব স্বল্পবসনা আলো আর পাতাঝরা

 

মায়া তিন

ডাক্তার আরিয়ার দিকে
চাইলেই
আমার চোখে পাখি আটকে যায়
চোখের পাখি ছাড়াতে আমি
খিদিরপুর কবিরাজ বাড়ি যাই
এরপর চোখদুটিই যেনো
পাখি হয়ে যায়
অঝর পাখিপাখি চোখে
ডাক্তার আরিয়াকে দেখি
হৃদরোগের ব্যবস্থাপত্র লেখে
আর আমার চোখজুড়ে নামে
ডাঙ্গর ডাঙ্গর পাখিবর্ষা

 

খোদার ফজলে

খোদার ফজলে বোমাগুলো
ফিলিস্তিন শিশুদের মাথায়ই পড়ে

তারা বলে-
হাতের মুঠি খুলে দাও কবি
আমরা তার নিচে দাঁড়াই

বলি- আমার মুঠায়ও অক্ষম মেঘ
অনাবশ্যক যন্ত্রণা থুবড়ে পড়ে
শাসকদের আমোদখানায়

আমিও কোনো বাবা, আমারও
মাতৃজোনির ইতিহাস আছে

সেই দায় নিয়ে বলছি-
কবিতার জন্য আর কোনো শব্দই
চাইবো খোদার কাছে
যেখানে বোমার মজুদ আছে

 

 

মন উজাড় চলছে

মন উজাড় চলছে
কেউ নিয়ে যাচ্ছে ভাবনা
কেউ নিচ্ছে ইশারা, মৌনতা
কারো প্রয়োজন শিল্প বোধ

পিছুটানগুলো নিয়ে কেউ
দুনিয়াটা আরও ভালো করে
বাঁধবে শুনেছি
আবেগ দিয়ে নাকি তৈরি হবে
সমান সমান খামারবাড়ি

আর আমি মন খালি হলেই
শবের সঙ্গে মিলতে পারি

৩০ নভেম্বর ২০২৩
পুরানা পলটন, ঢাকা

নওশিন

মন থেকে মোছে না কিছুই
এমনকি ধনেপাতার স্বাদও না
তবুও আমরা বেশিক্ষণ
মনে থাকি না

থাকে ভূইয়া বাড়ির নওশিন।

আমাদের নুন-পান্তার জীবনে
প্রধান উৎসবের নাম নওশিন
মনে থাকলেও বাস্তবে গহীন

এক আশ্চর্য সংঘবদ্ধ ঘ্রাণ
নোনতা শরীরে ফলে রাতদিন

০৯ ডিসেম্বর ২০২৩
পুরানা পলটন, ঢাকা

জীবন গিলে ফেলার ঘোর

প্রস্থান চাই
মনোহর আঙুলগুলো থেকেও
জনে-নির্জনে যা ধরেছি আর ছেড়েছি
নদীপরিসরে বাতাসে
ঘুর ঘুর মাতৃজোনির সপুষ্পক ঘ্রাণে

প্রস্থান চাই
বলা না বলায় হারানো কণ্ঠ থেকেও
ছোবড়াজীবনের বনে ফোটা ফুল
প্রদোষের ঘায়ে ছড়িয়ে পড়া
মনখারাপের স্কুল
সর্র্বাঙ্গে কামিনীসুবাস গ্রাম

প্রস্থান চাই
বট-পাকুড়-করমচায় ছাওয়া মন
বিদ্যালয়ের সেই বন্ধু রফিকুল
তুমি এমএ, আমি থ্রি-ফোর
যেভাবে শুরু ভাতের নামে
জীবন গিলে ফেলার ঘোর

২৮ ডিসেম্বর ২০২৩
পুরানা পলটন, ঢাকা

বনস্পতি

চোখের ওপর চোখ রেখে
কথা বলার দিন কি ফুরালো
তুমি আমি আমরা কি
চোখ থেকে মুছে ফেলবো
মেহগনি বন

এইতো সেদিনের ধু¤্র ভোর
পুকুরপাড়, ক্ষেতের আলে
একসঙ্গে দেখেছি আমরা
দৃশ্যচেড়া মেহনতি ঘোর

তবে কি সবই অলক্ত মেঘ!

কখন ঘটে গেলো এই যতি
তোমার সঙ্গে আমার
আমার সঙ্গে তোমার

জানে কি বনস্পতি

২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩
পুরানা পলটন, ঢাকা

একা

শামুক একা খোলে
একা হচ্ছে সেই অনঙ্গ ফারজানা
সকলেই যার কাছে পৌঁছতে পারে না
কারো কারো রক্তোৎপলে একা আসে
দন্তে নিয়ে নির্জনা
একাই মূলত সর্বজনীন
একাই সঙ্গম আরও গহিন

ভিড়ের ইমামতি ছেড়ে
হুজুর একাই খোদার কাছে ফিরে
একাই পৌঁছে পরম এককে
রেণু বালার হাতের মোনাজাত।
কেউ না দেখুক কারো
একা হওয়ার শাহাদাৎ

এবারও তিনি সভাপতি থাক

কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির নামের বানান
জানেন না জেলা কমিটির সভাপতি
মোচায় মোচায় জরা বাইন্ধা রহিছে কলা
কথায় কথায় প্রগতি
মল মনের বাতি জ¦ালাইয়া ধরছে রাতি
সংঘের হাততালি নেতা ও প্রজাপতি
সর্পছাওয়া পথে জমছে ব্যাঙের আরতি

একবার ভেঙে গেলে সম্মিলনের ডাক
চৈতে বৈশাখে তুমি আমির বিস্তর ফাঁক

পাখিদের আশা, এবারও তিনি সভাপতি থাক

কামরাঙাবন

ঘর ছেড়ে দেওয়া
স্ত্রী-পরিত্যাক্ত প্রায়পাগলের
পিছু নেওয়া চেতনা কোনো
ছুটে চললো
অফুরন্ত ছুটে চললো যে

কোথায় যাবে সে
এই ভেবে পেছনে ছুটলো
কবি
এবার দেখা যায় দুজনেরই
কোনো যাওয়া নেই
চিত্ত গুটিয়ে তারা হয়ে গেছে
এক কামরাঙাবন

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বাংলামোটর, ঢাকা

 

ডিগনিটি

মানুষ হও পুনঃপুন মানুষ
কাড়ি কাড়ি কইতর গুণে
যতদূর যাবে, তুমি কিন্তু তার বেশি না
যতদূর যাবে না, তুমি তারও বেশি না

মানুষ হও ন্যূনতম
অন্তত পিঁড়ার মতো, বাঁচা চর্চা করো
তোমার পেছনেও দেখবে
ছুটে আসছে মানুষের ডিগনিটি

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বাংলামোটর, ঢাকা

 

 

অপর

এমন একটা মাথা চাই
যাতে কোনো চিন্তা নাই
সবটাই মনাচার
ধুলা আর মশলাদার

এমন একটা মাথা চাই
যার কোনো দেহ নাই
দেহবাদী আমি নাই
আমার মধ্যে অপর নাই

 

মৃত্যু নির্মাণের তরিকা

পুস্প পত্র কা-ে
মৃত্যু ধরেছে অনির্বচনীয় আনন্দে
মহালীনের এই পূর্বাশা
সর্বত্র সর্বক্ষণে জাগিছে মনে
শেষ গোসলের সাবান
বইছে পাহাড়ি নারীর ঘ্রাণ

খোশদিলে ছড়িয়ে পড়ছে
পরপারের আখ্যান

সেই মহাবৃক্ষের পাতাঝরা দিনে
আমি থাকবো মৃত্যু নির্মাণের তরিকায়

 

বোস কেবিন

ভাঙন এলে ভাঙতে থাকি
ভাঙলে ক্ষতি কী
আলু ক্ষেত মুলা ক্ষেত ভাঙি
চোখের ভেতর ভেঙে যায়
বাতাকান্দি হাট
হাটে হাঁড়িও ভাঙে
কোনো সম্পর্ক ভেঙে হয়
পজেশান থ্রি-নট-থ্রি
দিনভরই নুরুদ্দিনের বউ
ভাঙে মুসিব্বতের সিঁড়ি
নারায়ণগঞ্জের বোস কেবিন
ভাঙালেও টের পাবে না কবি
ঠিক কোথায় ভেঙেছে তোমার!

লেখাপড়া

রঙধনু ভাসলে
আমি আকাশ দেখা বাদ দেবো
আকাশ ভাসলে বাদ দেবো স্বপ্ন দেখা
আর দুটো একসঙ্গে ভাসলে
বাদ দেবো লেখাপড়া
গাছগুলোর মতো

 

 

বাঘাপ্রস্তাব

প্রতিটি ফসল জাগাতে পারি আমি
শিশ্নে কালো ঘুঙুর জড়িয়ে
সেই কবে থেকেই ফসলের তনয় আছি
চর্ম-বস্ত্র-দৃষ্টান্তহীন নারীর বিরান আগ্রহ

একলা রাতে বৃষ্টির মিথুনে আমার ছাই
ভেসে গেলেও তাই
স্মরণে এনে প্রচুর থানকুনি পাতায়
থুয়ে যাবো কালো কালো জীবন
ডঙ্কুশ মাছের তীব্র চোখ
যেখানে আগামী পৃথিবী ফকিরি করে
অবহেলিত কবিতাওয়ালার ছায়ায়

দিয়ে গেলাম এই বাঘাপ্রস্তাব

২৩ জুলাই ২০২১

 

পিঙ্গল মেঘ ধাওয়া করে যাওয়া

পরেশের বউ- হীরা বালা
গায়ের রঙ বাংলাকালা
অর্থাৎ মেটেশ্যামলা
বিয়ের তিনমাস মোটে

পরেশ কৈবর্ত
মাছ বেচতে গিয়েছিলেন
বাতাকান্দি হাটে
ফেরত সন্ধ্যায় পঞ্চবটীর বাঁকে
কোনো এক কী কামড়ে
দিয়েছিলো তাঁকে

সেই থেকে ঘা, তারপর পচন
ছাড়লো না পরেশকে
জীবনের সবটা ভার
একাই বইলেন হীরা বালা
গাঁও হেঁটে পান-সুপারি বেচে

একদিন বর্ষালাগা সকালে
পরেশ বিদেহী হলে
পচনও ছেড়ে গেলো তাকে
কেবল পারলো না হীরা বালা

তখনও হীরা বালা পচিশ
তখনও গায়ের রঙ বাংলাকালা
এরপর শুধু পিঙ্গল মেঘ
ধাওয়া করে যাওয়া

ভাঙারি বিক্রেতা ছেলেটি

ভাঙারি কিনতে কিনতে
ভাঙারি বেচতে বেচতে
ভাঙারি হয়ে যাওয়া ছেলেটি

ভাঙারি হিসেবে ফাটা একটি
আয়নাও কিনেছিলো সে
হয়তো কোনো সৌরবদন নারী মুখ
দেখতো, জীবন দেখতো ওই আয়নায়

হয়তো ছেলেটির চোখে তার
কিছুই ভাসতো না
হয়তো দুয়েকবার ভাঙা আয়নায়
সেও মুখ দেখতো

করোনা ভেক্সিন শেষে
ছেলেটিকে আর দেখলাম না
হয়তো সব বেচে দিয়ে পাকস্থলির
গহিনে যাত্রা দিয়েছে সে!

 

বৃৃষ্টি যখন

বৃষ্টি যখন থামে না
সব বৃষ্টিই জাকিয়া সুলতানা
মনের মধ্যে ঝিম ধরানো
এই বৃষ্টি কারো না

কয়েন ধুয়ে মূল্য দিলাম
কিছুই সে নিলো না

বৃষ্টি যখন বুঝে না
সব বৃষ্টিই জাকিয়া সুলতানা

২৯ জুলাই ২০২১

আমরা যারা কবিতায় নব্বই

আমরা যারা কবিতায় নব্বই
বিদেহী হিমালয়ে ঘোরগ্রস্ত উঁই
দুর্ঘটক শব্দ, বাক্য, পঙক্তি
যতি মুছে আবার যতি দেই
ফুটে উঠে ডঙ্কুশ মাছের চোখ

আমরা যারা কবিতায় নব্বই
এক প্রকার জমিজমার মতোই
পুরুষ থেকে পুরুষে হাতড়াই
আর একটা পইখ উড়ে গেলো
ধানক্ষেতের বাতাস মুছে দিয়ে

আমরা যারা কবিতায় নব্বই
নেত্রকোনার মদন, বরিশালের
আগৈলঝাড়া, ঝিনাইদহের শৈলকুপা
রাজবাড়ীর সুলতানপুর, কুমিল্লার
হোমনায় থেকে আঁজলায় জড়ো
করেছি দুএকটি প্রগাঢ় গাছ

আমরা যারা কবিতায় নব্বই
ব্যক্তিগত রোকসানা এসে বলে
কীসের কবিতা, পাশে বসো
একটা সংযোগকাল লিখে ফেলো

২৬ জুলাই ২০২১

ভেরি পলিটিক্যাল একটা লাশ ফেলে দাও

তোমার আমার মৃত্যুঞ্জয়ী সৌকর্য ছাড়া
এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না
চলো মৃত্যুর ঘুঙুর বাঁধি পায়ে

চলো একটা কুকুরকে জাতিসংঘ মানি
আর বন্দুককে মানি ধর্ম
এরপর একটা মেধাবি সন্ত্রাস শুধু

সর্বত্র একটা পলিসি ক্রস করো
গুলি যেমন ক্রস করে বুক মাথা
ভেরি পলিটিক্যাল একটা লাশ ফেলে দাও

বদলা নেওয়ার কোনো শিশুতোষ পথ নেই
মুক্তির অভিলাষই নিরঙ্কুশ সভ্যতা
ওঠো ফিলিস্তিন, পয়মন্ত মৃত্যুর জন্য

 

লাশোৎসব

পাড়া-প্রতিবেশিরা আবারও লাশ দেখে জানায়
পাড়ায় পাড়ায় আরও লাশ মাছির গানে উড়ছে
এর মধ্যে ঘাড়ত্যাড়া খোকা মৌলভীর লাশটাই
বেশি উৎসবমুখর লাগছে

আরও লাশ রয়েছে এদিক-ওদিক
তার মধ্যে সংখ্যামৃত্যুই বেশি
যেগুলো শুধু গণনা করা হয়

লাশ উৎসবে সাধারণত সুশীলরা জড়ায় না
তাতে গোলাপজলের কটু গন্ধ থাকে বলে

 

 

 

 

পাহাড়নামা

পাহাড় থেকে পড়ে গেলেও আমি
পাহাড়েই পড়বো
জলপাই জমানায় পড়বো না

১০ নভেম্বর ২০২৪
বাংলামোটর, ঢাকা

 

রূহের ভিতর বহিছে তার দিদার

যে জীবন আমরা রচিয়াছি
কলবের অলীক আলয়ে
মুছিয়াছি তারে
অকৃষি যাতনার মেটালে

মায়া দুধের সরে নাচিছে বিশ্ব
বায়ুর আয়ুম-লে
রূহের ভিতর বহিছে তার দিদার

হাঁড় পাঁজরে ছেড়েছি যারে
সেই প্রাচীন দুয়ারে
বোনের আমপাড়ার মলিন
পৃষ্ঠাগুলো খুঁজবো দুভাই মিলে

০০.০০.২০২৫
কক্সবাজার

 

Scroll to Top