খনের বচন

ফন্ট সাইজ পরিবর্তন-+=

স্যালুট, নেহা বোরা

নেহা বোরা গণসংগ্রামের নতুন কলা তৈরি করছেন কি না— এমন আলাপ হতে পারে। সংগঠনকেন্দ্রিক আন্দোলনের যে ধারণা, সেখানে কৈফিয়তও হাজির হতে পারে। বিশেষ করে গত শতকেরও আগে থেকে যে চেষ্টা ভারতবর্ষের সংগঠন-ভাবনায় অনড়—এতে নেহাকে খেয়াল করা লাগতে পারে। এছাড়া নেতা ও নেতৃত্বের সিলসিলায়ও এক ধরনের টান তৈরি হওয়ার কথা। নেতা নাজিল হওয়ার বিষয়ও, আবার না-ও।

নেহা বোরা একেবারেই একা একজন মানুষ। একা হয়েই তিনি চলতে পছন্দ করেন বলে মনে হয়। তাঁর এই একাকীত্ব আরও একা মানুষের মধ্যে পরিসর ছড়িয়েছে। এর রাজনৈতিক ভাষণ কী হবে, তা বলতে পারব না। এর জন্য সংশ্লিষ্টজনেরা আছেন। বলতে পারি—নেহা ভাবনা তৈরি করেছেন; বাদী-বিবাদী সকলের জন্য।

স্যালুট, নেহা বোরা। আপনার জন্য একশ তেরো শব্দ।

৭ অরক্টাবর ২০২৬

 

 

 

হুনুন,

শেখ মুজিবুর রহমানকে সইতে না পারলে ইতিহাসে আপনাদেরও বিপদ বাড়বে। আপনারা যাই মনে করুন—উনি ইতিহাসে থাকবেন। কারণ ইতিহাস শুধু নথিতে থাকে না, মানুষের মনেও থাকে। নথি আর মানুষের স্মৃতি—দুটিকে একসঙ্গে আমল করেই ইতিহাস বুঝতে হয়। আওয়ামী লীগ এ কথা মানে নাই। জনগণও তাদের ইতিহাস মেনে নেয় নাই।

মুজিবের ন্যায্যতা যা আছে, তার পাওনা থাকবে। গা-জ্বলুনি দিয়ে সবকিছু বুঝতে যাইয়েন না। শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশের রাজনীতিতে মুজিব অবশ্যপাঠ্য—বাকি বিশ্বে ঐচ্ছিক। তাকে পছন্দ করা বা না করা এক বিষয়, ইতিহাসে তার অবস্থান ফকফকা করা আরেক বিষয়।

কিছু পাণ্ডা বুদ্ধিজীবী সব সময় থাকেন, এখনও আছেন। তারা মানুষের ওপর যত ঝামেলা চাপিয়ে দিয়ে সেখান থেকে ফায়দা খোঁজেন। ইতিহাস নিয়েও একই কাজ করলে শেষ পর্যন্ত ইতিহাসেরই ক্ষতি হয়।

এ ছাড়া একটি বই লেখা হইছে। হ্যাডম থাকলে আপনি আরেকটা লেখেন। বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার জবাব আরেকটি বই দিয়ে দেন। কিন্তু বইয়ের বেচা বন্ধ করার বৈধতা আপনাদের কে দিছে? ব্যালটে লেখা ছিল বই বেচা বন্ধ করবেন?

একজন ‘নষ্ট’ মানুষের বইও বাজারে পাওয়ার ব্যবস্থা করা লাগবে। আর যারা ‘নষ্ট’ না, তারাও থাকবেন। কে নষ্ট আর কে নষ্ট না—সেই সিদ্ধান্ত বই সরিয়ে দিয়ে নেওয়া যায় না। পাঠক পড়বেন, বিচার করবেন, গ্রহণ বা বর্জন করবেন।

শুধু, বইয়ে যাদের জ্বলুনি, তাদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা যাইতে পারে।

 

 

৩০.০৯.২০২৬

গামছা উদযাপন

নতুন করে গলায় গামছা পরতে শুরু করেছি ১ মাস হলো। এক মাসের যে অভিজ্ঞতা, সেটি আমি আগে কখনও পাইনি। অনেক বন্ধু-স্বজন-সহকর্মী প্রশ্ন করছেন—গামছা কেন পরি? উত্তর হচ্ছে—দেশে গামছা উৎপাদন বৈধ, বেচা-কেনা বৈধ, পরিধান বৈধ। এটি অন্যের মানহানি ঘটায়, ক্ষতি করে—এমন কোনো নজির দেখি না। তবে ব্যবহারকারীর জন্য একটি বিষয় আছে—তিনি চাইলে যেকোনো সময় প্যাঁচটা একটু কষে স্বাধীনভাবে মরতে পারেন।

অভিজ্ঞতা-উদযাপন

শ্রমিক হিসেবে আমার গামছা পরা অনেক আগেই ছিল। পরে গামছার ঘরোয়া ব্যবহার আমি ছাড়িনি। এটি আমার কাছে সুবিধাজনক মনে হয়। তবে বাইরে বের হলে গামছা ব্যবহার করিনি অনেক বছর। এখন করছি। এটি এ দেশে অনেকেই করেন। এছাড়াও কোনো কোনো খ্যাতিমান ব্যক্তি করে থাকেন, আমি তাদের দলে পড়ি না।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পুরান পল্টন থেকে দোতলা বিআরটিসি বাসে উঠেছি। গন্তব্য বাংলামোটর। ১০ টাকা ভাড়া দিয়েছি। বর্তমান সময়ে এই ভাড়ায় কারওয়ানবাজার পর্যন্ত যাওয়া যায়। বাসটি পরীবাগ এলে চালকের সহকারী জানতে চান, আমি কোথায় নামব? আমি বললাম, ভাড়া নেওয়ার সময় তো আপনাকে বলেছি। তিনি বললেন, সেটা তো হয়ে গেছে, আপনি নামেন। আমি বললাম, আমার বাংলামোটর গন্তব্য। তার জবাব—এখনই নামেন, সামনে সিগন্যাল আছে। আমি বললাম, বাংলামোটর পর্যন্ত গেলে আমি নেমে যাব।

এরপর চালকের সহকারী বললেন, কেন, আপনি হেঁটে যেতে পারবেন না? আপনি কে? আপনি কি ম্যাজিস্ট্রেট? হাঁটতে পারবেন না? আমি বললাম, না। আমি ম্যাজিস্ট্রেট না—একজন সাধারণ যাত্রী। এরপর যত ধরনের ভাষায় হেয় করা যায়, তিনি করলেন। আমি দুয়েকটির উত্তর শান্তভাবেই দিয়েছি। তিনি উত্তেজিত। বাসভরা যাত্রী সবাই দেখছেন, কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। আমি নামার সময় চালককে বললাম—ভাই, আপনিতো সবই শুনেছেন, আমার দোষটা কোথায়? চালকের উত্তর হচ্ছে—সামনে নামাতে পারব না, আপনি নামেন। আমি বললাম, ঠিক আছে, আপনার সহকারী যে এমন আচরণ করলেন? তিনি বললেন, আপনি কি মন্ত্রী-মিনিস্টার, যে আপনার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে?

একজন নারী যাত্রী মন্তব্য করলেন, লোকটির তো কোনো দোষ নাই। হেলপারই তো শুধু শুধু গালাগাল করল। আমি বাস থেকে নেমে কর্মস্থলের পথে হাঁটছি। ভাবছি, আরও তো বাসে লোক ছিলেন, তাদের অনেকে একই জায়গা থেকে উঠে, একই গন্তব্যে নেমেছেন। কিন্তু আমার সঙ্গে এমনটি হলো কেন? তখনই মনে পড়ল—আমার গলায় গামছা আছে।

খুব আনন্দ হলো ঘটনাটির সূত্র আবিষ্কার করতে পেরে।

নারায়ণগঞ্জ দোয়েল সিটির সামনে এক বিড়ি বিক্রেতা বলেন—ওই সরদার, ১০টা টাকা দেও। আমি বললাম, কেন? উনি বললেন, এত কথা জানতে চাও কেন, লাগবে, দেও। আমি টাকা দেই নাই।

দিগুবাবুর বাজারের সামনে গেলে একজন বলেন—ওই ব্যাপারী, একটু আগুন আছে নি? আমি বললাম, বুকে অনেক আগুন। লোকটি বললেন—ধান্ধাবাজি ছাইড়া আসল কথা কও। হেসে হেসে আগুন দিলাম।

অনেক বাচ্চা-বাচ্চা রিকশা-অটোচালক বলে—ওই মিয়া, কই যাইবা? গেলে ওঠো।

আমার অফিসের লিফটের নিরাপত্তাকর্মী বলছেন—বাইরে তো অনেক মেঘ, ভিজ্জা আইছোনি? তার সঙ্গে আমার প্রতিদিনের পরিচয়টি কিন্তু থাকছে না।

আনন্দের কথা হচ্ছে—এতদিন আমার আসল পরিচয় শনাক্ত হচ্ছে। মানুষ আমাকে ডরভয় ছাড়া সম্পর্কিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে গামছা শুধু আমার পরিধান নয়, পরিচয়ও। এই গামছা উদযাপন ভালোই লাগছে। দেখি, এই ভালো লাগা কতদিন থাকে।

27.09.2026

 

 

এত যে পড়া পড়া করেন—

না পড়লে কি কেউ না খেয়ে থাকেন? পড়ার জাহিরি ব্যামোটা কেন? না হয় হাজার দশেক বই পড়েছেন—তা দিয়ে কি একটা কাঁচা আম ছিল্লা খাওয়ার ঝিনুক বানাইতে পারবেন? এইটা যে পারে, সেই বালক কি বলে বেড়ায়, আপনি কেন এইটি পারেন না?

12.08.2026

 

 

 

আশাবাদী হওয়া এক প্রকার অসুখ। অসুস্থ হলে সারাই আছে, অসুখের সারাই নাই। আশা করার সুখ হচ্ছে—মাছি মারার মতো। মারতে পারলে মরল, না মারতে পারলে আবার মরবে। আশাবাদীর ইচ্ছাপূরণ লাগবেই।

তাই, আমি আশা করতেই থাকব। আশাবাদী নয়।

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আনন্দ পেয়েছি।

 

দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান আওয়াজ দিয়ে গাছ লাগানোর কথা বলেন। গাছ যখন কাটা হয় তখন আর আওয়াজ পান না। এমনই দেখে আসছি বছর বছর। তবুও বলছি- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আনন্দ পেয়েছি।

 

তুমিও বড় হবে, গাছটাও বড় হবে

‘তুমিও বড় হবে, গাছটাও বড় হবে। দেখবে গাছটা তোমার সবচেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে দেখা দিবে একসময়। ওই গাছের সঙ্গে তুমি কথা বলতে পারবে। তুমি যেখানে থাকো, তুমি যেখানে মাঠে খেলো, তুমি যে বাসায় থাকো অথবা যেখানে থাকো, যেই স্কুলে পড়ো, যেই কলেজে পড়ো, ওখানে কোনো এক জায়গায় প্রত্যেকে প্রতিবছর একটা করে গাছের চারা রোপণ করবে।’

(২৯ জুন ২০২৬-এ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।)

 

ছোটখাট মানুষ, আমার আনন্দও ছোটখাট। তাই প্রকাশ করলাম।

30.06.2026

 

 

 

 

বছর বছর বিড়ির দাম বাড়ানো হরেদরে জুলুমবাজি। দেশে কত ভাগ লোক বিড়ি খায় তার হিসাব আমার জানা নেই। তবে সব বিড়িখোর এক জায়গায় ভোট দিলে সরকারে কারা যেত, সেটি নিয়ে আমার কৌতূহল রয়েছে।

বিড়ি নিরুৎসাহিত করতে বৈজ্ঞানিক কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, আমার অজানা। মানুষের বিড়িনির্ভরতা কেন, সে বিষয়ে সঠিক কোনো গবেষণা আছে কি না জানি না। খোরের নাগালে যাতে বিড়ি না আসে- সেই ব্যবস্থাও চোখে পড়ে না।

রাষ্ট্র বিড়ি বিষয়ে মানুষের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলছে। সব উৎস খোলা রেখে বিড়িখোরদের পকেট কেটে অর্থশোষণে সরকার সহায়তা করছে বলে ধারণা করি। এতে কম আয়ের মানুষের ওপর জায়েজ রয়েছে জুলুমবাজি। ৫ টাকার সদাই কেন ২০ টাকায় কিনবে মানুষ!

16.06.2026

 

 

আমার সব ক্ষুধা মিটে যায়— সম্পর্ক খাওয়ার ক্ষুধা মিটে না। সম্পর্ক খাওয়ায় আমার খামতি নাই। বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক খেতে আমি খুবই ভালোবাসি। তবে শহুরে সম্পর্কগুলো খেতে বেশ সুস্বাদু। গ্রাম্য সম্পর্ক পেটে কম সয়। বমির সঙ্গে বেরিয়ে আসতে চায়। এগুলো কেমন যেন আঠার মতো দাঁতে-গালে প্যাঁচাইয়া যায়— খাওয়া যায় না। আমার খাদ্যে কোনো বেটা-বেটির তফাৎ নাই— সবই অন্ন। সম্পর্ক খাওয়ার প্রতিভা আমার বিস্ময়কর।

এই নিয়ে রিনা খালার সঙ্গে আমার মিল রয়েছে। রিনা খালা ছোট কাকুকে খেয়ে একেবারে জটওয়ালা সাধু বানিয়ে ছেড়েছেন।

 

30.05.2026

Leave a Comment

Scroll to Top