দাগ নম্বর
মানুষে মানুষ লিপ্ত হলে
লুপ্ত হয় কে, জানি না।
এক গাছে দুই কদম—
বিজোড় কি আমি না?
আমি থেকে আমি হইয়া
যে পড়িল সরিয়া,
কী করে মিলিবে ফল,
শুকনা গাছ মরিয়া।
অখণ্ডে যে লীন হইলো,
খণ্ড খণ্ড প্রস্থানে;
না মরিলে পাব তারে
দেহ ছাড়া কোনখানে?
এক দাগের দুই জমিতে
জন্ম-মৃত্যু—দুই স্থাপনা।
কেমনে হবে মালিকানা
দাগ নম্বর তো জানি না।
২৯ জুন ২০২৬
উৎসব পরিবহন
দাগের কাপড়
যতই ভুখা তুমি ততই নীরব
অন্তর খেয়ে গেছে নুনেরা সব
জীবন গুছিয়ে আরশের স্নেহ
চুনকাম শেষে ছেড়েছে দেহ
আলিঙ্গন করে আছো সাবানের ফেনা
দাগ ছিলো কিনা যদিও জানো না
কাজ করে খাও কাম করে বাঁচো
এখনও কি দাগের কাপড়ই কাচো
উৎসব পরিবহন
২৫ জুন ২০২৬
হৃদাল পগলের অনিশ্চিত স্বৈরাচার
ফুলের সুবাস নিয়ে বার বার
বুকের বিমূর্ত নির্জনে লাগায় হৃদাল
তার কী হয়েছে কী হয়নি
জানে না কোনো দয়াল
সর্ববন চুষে বেগুন ফুলের
টানে পাগল হয় হৃদাল
সেখানেও জীবন তুমুল আভা দেয়
বউ সন্তান সংসারেও পাগল হৃদাল
জমির মাটি দেখে ভাবে- গর্ভা হরিণ
শুয়ে শুয়ে বাতাসে বাঘ বুনছে
নিরাময়যোগ্য স্মৃতি নিয়ে টানাটানি
করে ঘুমঘুম নদী।
নদী তো অজানা নারী, মাথার ভিতর ঘুরঘুর করে
তার ফটো তোলা যায় না
হৃদাল ভুলগুলো সেলাই করে করে
পিপড়াসমান পরিসর বানায়
সেখানে দ্যাখে নক্ষত্রের সুড়ঙ্গ; তবে
স্পষ্ট না, অনুমান। ভুলও হতে পারে
বন্ধন পরিবহন
ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সড়ক
জুন ২০২৬
পীর ছাবের দোয়া
আমাদের ঘরে সোনার কোনো
চামচ ছিলো না
ছিলো আম্মা আব্বার পীর ছাবের দোয়া
দোয়া নিয়ে বেড়ে ওঠা যায়
বড় হওয়া যায় না
তাই বড় না-হওয়া আমাদের উত্তারিধকার
এই অধিকার ছাড়া
বাঁচতে পারমু না
১৬ জুন ২০২৬, বাংলামোটর, ঢাকা
বোনের আমপারার পৃষ্ঠাগুলো
যে জীবন আমরা রচিয়াছি
কলবের অলীক আলয়ে
মুছিয়াছি তারে
সুবর্ণ স্কুলের দেয়ালে
মায়া দুধের সরে নাচিছে বিশ্ব
মরা দোয়েলের ডিম লইয়ে
হাঁড় পাঁজরে ছেড়েছি যারে
সেই প্রাচীন দুয়ারে
বোনের আমপারার পৃষ্ঠাগুলো
খুঁজবো দুভাই মিলে
৩০ মে ২০২৬
পোষাকথা
তুমিও বউকে বদলাবা
বদলাবে না দু’মনা
আরও নিঃসঙ্গ হবে
যার যার পোষাকথা
জীবন হবে বাঁশি
দুজনই বাজাবে তারে
বাজবে না এক সুরে
শস্যমারা কার্তিক
একাই আমি মৃত্যু মোকাবিলা করবো
তবুও কথা থাকে
তোমাদের জন্য বুকে
এই যে আমি গত রাতে মৃত্যু দেখলাম
আমার প্রিয় নিঃশ্বাস, যাকে আমি
এক মুহূর্ত ছাড়িনি
সেও পালাতে চাইলো
এই কথা তোমরা কানে তুলো না
আমার মৃত্যুর পরে তোমাদের মুখে
দেখা দেবে শস্যমারা কার্তিক
তুরিনের বোনের জানালা
তুরিনের বোনের জানালায় সে ছাড়া
আর কেউ মুখ দেখাতে জানে না
আশপাশের গাছে মৌচাকে
ঢিল দিলে শতশত মৌমাছি
জানালা দিয়ে ঢোকে
আবার বের হয়ে আসে যেন মধু নিয়ে
তুরিনের বোনের সঙ্গে এসব মৌমাছির
হয়তো গল্প নেই। তবুও প্রসঙ্গ যখন
এসে যায় তখন তুরিনের বোন দূরের
কেউ মনে হয় না।
মৌচাক স্বল্পস্থায়ী হলেও মধু চিরন্তন
লেগে থাকে মিথের মতোন।
এরপরও তুরিনের বোন প্রসঙ্গ থাকে
যথেচ্ছই মনে
২৭ জুন ২০২৫
উৎসব বাসের লাইন
বায়তুল মোকাররম, ঢাকা
হৃদয় লাগোয়া বাড়িটি
হৃদয় লাগোয়া যে বাড়িটি আমার
তার পাশেই ধানবন
এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা
ধানের দেহে কৃষকের শুক্রাণু
তারপর গ্লসনস্ত পেরেস্ত্রোইকা
ইতিহাসের শেষ ঘোষণা আসে
আমেরিকা হয়ে বাংলাবাতাসে
দেখে মজলুম- মজলুমের
পেটের ভেতর ইনকিলাবের লাশ
হৃদয় লাগোয়া যে বাড়িটি আমার
তার পাশেই ধানবন
বনে হেঁটে বেড়ায় যাদুকাটা নদী
১৯ জুন ২০২৫
ঢাকা-নারায়ণঞ্জ সড়ক
ক্ষুধাবাগান
দুর্দান্ত দুই ঘোড়া মাটি কাটতে যাচ্ছে
পেছনে ঘনসন্ধ্যা
প্রায় তিনফুট ঘেরের ক্ষুধাগুলো
সেজেগুজে হাঁটছে
একনিমিষে তা ছড়িয়ে পড়ছে
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া
ঘোড়াদুটি যার যার ওজনের সমান
মাটি কেটে সেই গর্তে ক্ষুধাগুলো
পুঁতে ফেলছে
এখন সেগুলো গাছ হয়ে
বাগান হয়েছে
২৫ মে ২০২৫
দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ
ভিতর বাহির
শিখাইলা বিকিয়ে যাওয়া
এখন কও সংযত হও
আর পারি না রে পাগল
এখন আর পারি না
বাইরে সবটাই বেচাবিক্রি
সমূলে তাই ভিতরেই থাকি
ভিতরটায় কী জানি চাড়া দেয়
সুহৃদ পাথর হইতে পারে
২৪ মে ২০২৫
ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ সড়ক
জীবনে ধাক্কা দেওয়া ভাতের হোটেল
জীবন ফুরিয়ে যাবে
জীবনে নেয়ে ওঠা সূর্য ফুরাবে না
কচু-ঘেচুর ভেতর উঁকি দেবে
আগুনের ভায়োলিন
লতা-গুল্ম-তৃণে
নন্দনের ফোঁটা
ছুটে যাবে হরিৎ চুম্বনে
ফিরবে
জীবনে ধাক্কা দেওয়া ভাতের হোটেল
১৮ এপিল ২০২৫
নারায়ণগঞ্জ
পূর্ব পশ্চিম
তোমাদের হাতে হাতে বন্দুক
আমাদের মাথা ভরা শিশ্ন
তোমরা স্কুলে-স্কুলে গুলি করো
আমরা ঝোঁপে-ঝাড়ে ধর্ষণ করি
গাছগুলি মনগুলি ধর্ষণ করি
যতটা সম্ভব রক্তপাত গিলে ফেলি
বলি না- আরও কোনো নতুন
সূর্যোদয় দাও
১৮ এপ্রিল ২০২৫
নারায়ণগঞ্জ
আমলা ও কবি
কবিরা আমলার কাছে গেলে
আমলারা কবির কাছে এলে
বিহঙ্গ কোথায় যাবে
রোহিতের পুঁজি নিয়ে
মোহিতকে তুষ্ট করলে
অনেক শব্দ স্মরণার্থী হয়ে যায়
কবি তুমি ইমানের খেলাপ করলা
বৃক্ষ আর বিহঙ্গে
থাকিবার কথা ছিলো তোমার
বেদনাকে রুজি বানিয়ে গেলে
হংসবন মাড়িয়ে
২০ নভেম্ব ২০২৩
পুরানা পলটন

